Wednesday, January 23, 2013

ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ঢাকা ওয়াসা :

এম এ বাবর  
রাজধানীর পানি সমস্যা নিরসন, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ খাল খনন ও স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনে ‘ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা ২০১০-১২’ কর্মসূচির অগ্রগতি সামান্য। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে এ কর্মসূচিতে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াসার ঘুরে দাঁড়াও কর্মসূচির কাজগুলো পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়নি। ফলে সামনে ঢাকা ওয়াসাকে আরো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
শুষ্ক মৌসুমে রাজধানীতে তীব্র পানি সংকট সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও পানি সরবরাহ থাকলেও ময়লা ও দুর্গন্ধের জন্য তা ব্যবহার করা যায় না। আর একটু বৃষ্টি হলেই নগরী জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। রাজধানীবাসীর এসব সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকা ওয়াসা ঘুরে দাঁড়াও কর্মসূচির আওতায় বেশকিছু প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার ঘোষণা দেয়। এ কর্মসূচির আওতায় নগরীতে দীর্ঘদিনের পুরনো পানির লাইন পুনরায় স্থাপন, নতুন পানির লাইন সংযোজন, বক্স কালভার্ট-ড্রেনেজ লাইনের সংস্কার ও উন্নয়ন এবং খাল পুনরায় খনন করে নগরীর সব জলাধার সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা।
রিসোর্স ইন্ট্রিগেশন সেন্টারের (রিক) ঢাকা আরবান গভর্নেন্স কর্মসূচির প্রধান এস এম এ মুয়িদ বলেন, ‘ঘুরে দাঁড়াতে হলে সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সেবার মান বাড়াতে হবে। কিন্তু ঢাকা ওয়াসার গ্রাহকসেবার মান এখনো বাড়েনি। অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আর পানি সংকট নিরসনে বিকল্প ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। শীত মৌসুমে পানির চাহিদা কম থাকায় এখন তেমন পানি ঘাটতি নেই। তবে শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ     করতে পারে। এ ছাড়া স্যুয়ারেজ ব্যবস্থায় তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি বলেই গত বর্ষা মৌসুমেও রাজধানীতে প্রচুর জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাগজ-কলমে অনেক প্রকল্পের কথা বলা হলেও বাস্তবে সেগুলো অগ্রগতি কম।’
কাজের সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে দাবি করে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকিসম এ খান বলেন, ঘুরে দাঁড়াও ঢাকা ওয়াসা কর্মসূচি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ কর্মসূচির বেশকিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। যার সুফল রাজধানীবাসী পেতে শুরু করেছেন। বর্তমানে রাজধানীতে চাহিদার অতিরিক্ত পানি উৎপাদন ও সরবরাহ করছে ঢাকা ওয়াসা। একসঙ্গে রাজধানীর পরিধি সম্প্রসারণ ও নাগরিকদের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পয়ঃ ও স্টর্ম ড্রেনেজ ব্যবস্থারও ক্রমাগত সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কাজ চলছে বলে কর্মসূচির সময়সীমা ২০১৩ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এ কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, ভূ-পরিস্থ উৎস থেকে পানি উত্তোলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ডিসেম্বরে সায়দাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প ফেজ-২ চালু করা হয়েছে। এটি থেকে দৈনিক সাড়ে ২২ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করা হচ্ছে। ২০০৯ জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০১২ পর্যন্ত ১৩১টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। গত ৪ বছরে ২০৩ কিমি নতুন পানির লাইন, ১১ কিমি পয়ঃলইন এবং ২.৬ কিমি স্টর্ম ড্রেনেজ লাইন পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনে ২৩ কিমি খাল দখলমুক্ত ও ৮ কিমি খাল পুনরায় খনন করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক গ্রাহকসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ওয়াসা লিংক ১৬১৬২ চালু করা হয়েছে। যেসব কাজ রয়ে গেছে সেগুলো চলতি বছরের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
http://www.manobkantha.com/archive_details.php?id=103614&&%20page_id=%206&issue_date=%202013-01-18

No comments: