অমরত্ব দেয়া হয়েছে ৫০টি অনুচ্ছেদকে
সালেহউদ্দিন
বিসমিল্লাহ
ও রাষ্ট্র ধর্ম ইসলামকে সাংবিধানিক পন্থায় সংবিধান থেকে কোনদিন বাদ দেয়া
যাবে না। এ দুটি বিষয় ছাড়াও কোনভাবেই সংশোধন, পরিবর্তন, পরিমার্জন বা
বাতিল করা যাবে না সংবিধানের অর্ধশত অনুচ্ছেদ। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এই
অনুচ্ছেদগুলোকে অমরত্ব দেয়া হয়েছে।
যেসব অনুচ্ছেদ অমরত্বের সুযোগ পেয়েছে, সেগুলো হচ্ছে সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৭ মার্চের ভাষণ, জাতির পিতা ও জাতির পিতার প্রতিকৃতি, রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম, রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি এবং মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিধানাবলীসহ প্রায় পঞ্চাশটি অনুচ্ছেদ। কোনো কোনো সংবিধান বিশেষজ্ঞ মনে করেন গণ-অভ্যুত্থান বা জাতীয় বিপ্লব ছাড়া এই অনুচ্ছেদগুলোর পরিবর্তন বা সংশোধন সম্ভব নয়। তবে ভিন্ন মতাবলম্বীরা বলছেন, যে সংসদ এটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে সেই সংসদ তা বাতিলেরও এখতিয়ার রাখে।
জাতীয় সংসদে ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন-২০১১ পাস হয়। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে বিলটি পাসের পক্ষে ২৯১ ও বিপক্ষে মাত্র একটি ভোট পড়ে। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (জাপা), জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্যরা বিলটি পাসে ভোট দেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে আলোচিত সংশোধনীটি হচ্ছে সংবিধানের ৭(খ) অনুচ্ছেদটির সংযোজন। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানেও বিধানটি ছিলো না। ৭(খ) অনুচ্ছেদে বলা হয়, 'সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসূমহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসূমহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।'
প্রসঙ্গত সংবিধানের প্রথম ভাগের ২(ক) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন। এছাড়াও সংবিধানের প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা, রাষ্ট্রভাষা, জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক, অফিস-আদালতে জাতির পিতার প্রতিকৃতি স্থাপন, সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিধানের বর্ণনা রয়েছে। এছাড়া সংবিধানের প্রথম ভাগে সর্বমোট ৭টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। এই অনুচ্ছেদগুলো কোনভাবেই পরিবর্তনযোগ্য নয়। সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে ৮ থেকে ২৫টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। এই অনুচ্ছেদগুলোকেও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে চিরস্থায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগের ৮(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা-এই নীতিসূমহ এবং তত্সহ এই নীতিসূমহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে। দ্বিতীয় ভাগে ধর্ম নিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা, সম্পদের মালিকানা নীতি, সুযোগের সমতা, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ইত্যাদি রয়েছে।
তৃতীয় ভাগে ২৬ থেকে ৪৭ অনুচ্ছেদ রয়েছে। এই অংশে মৌলিক অধিকার পরিপন্থী আইন বাতিলের নির্দেশনা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্মের কারণে বৈষম্য না করা, নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার, চলাফেরা, সমাবেশ, সংগঠন ও ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং চিন্তা-বিবেক ও বাক স্বাধীনতা ইত্যাদির অধিকার দেয়া হয়েছে। এছাড়া সংবিধানের ১৫০ (২) অনুচ্ছেদে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার টেলিগ্রাম, ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ইত্যাদি সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব বিধানের কোন অংশই সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা বাতিল করা যাবে না।
প্রসঙ্গত এমন ধরনের একটি বিধান পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে (১৪২ (১ক) অনুচ্ছেদ) সংবিধানে সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে উল্লেখ ছিলো 'এই সংবিধানের প্রস্তাবনায় অথবা ৮, ৪৮ বা ৫৬ অনুচ্ছেদ অথবা এই অনুচ্ছেদের কোন বিধানাবলী সংশোধনের ব্যবস্থা রহিয়াছে এইরূপ কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের ৭ দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি দান করিবেন কি করিবেন না এ প্রশ্নে গণভোটের ব্যবস্থা করিবেন।' কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের বিধানটি বাতিল করে দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত পঞ্চম সংশোধনীর মামলায় আপিল বিভাগও গণভোটের বিধান বাতিলের নির্দেশনা দিয়েছে। ফলে সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, বিয়োজন বা বাতিলের ক্ষেত্রে গণভোটের কোন বিধান বা জনগণের অভিমত নেয়ার কোন সুযোগ আর নেই।
এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, 'সংবিধানের প্রস্তাবনা প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগে তিনশ' জন সংসদ সদস্য চাইলেও পরিবর্তন আনতে পারবেন না। জনগণের বিপ্লব ছাড়া এখানে হাত দেওয়া যাবে না। কারণ আমাদের পূর্বসুরীরা বিপ্লবের মাধ্যমে এই চার মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করেছেন।' তিনি বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম-এই বিধান রাখায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। যারা এই সংশোধনী করেছেন, তাদের নৈতিক সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, 'আপনি যদি সংবিধানের মূল চার নীতিতে বিশ্বাস করেন, তাহলে পঞ্চদশ সংশোধনীর ওই বৈপরীত্য, কিভাবে সমর্থন করবেন?'
অন্যদিকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ৭(খ) অনুচ্ছেদ সংবিধানে যুক্ত করে জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এ রকম কোন বিধান সংবিধান সম্মত হতে পারে না। শুধু তাই নয় এর মাধ্যমে সংসদের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে। সংবিধানকে সংরক্ষণ, রক্ষা এবং সাংবিধানিক পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের যে ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের রয়েছে তাও কেড়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করেই উল্লেখ রয়েছে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ করেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ (১ক) অনুচ্ছেদ সংবিধানে যুক্ত করে কয়েকটি বিষয় সংশোধনের ক্ষমতা জনগণের উপর ন্যস্ত করা হয়। অর্থাত্ সংসদ যদি সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮ বা ৫৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনীর বিল পাস করে তবে তা অনুমোদনের আগে রাষ্ট্রপতি বিষয়টি গণভোটে দেবেন। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের গণভোটে অংশগ্রহণের ক্ষমতাও কেড়ে নেয়া হয়েছে। মওদুদ আহমদ বলেন, 'আমি মনে করি যে সংসদ ৭(খ) অনুচ্ছেদ সংবিধানে সংযুক্ত করতে পারে একই ধরনের আরেকটি সংসদ সেই অনুচ্ছেদকে বাতিলও করতে পারে। এটি একটি সংবিধান পরিপন্থী অনুচ্ছেদ। অবশ্যই এটিকে বাতিল করতে হবে।'
যেসব অনুচ্ছেদ অমরত্বের সুযোগ পেয়েছে, সেগুলো হচ্ছে সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৭ মার্চের ভাষণ, জাতির পিতা ও জাতির পিতার প্রতিকৃতি, রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম, রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি এবং মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিধানাবলীসহ প্রায় পঞ্চাশটি অনুচ্ছেদ। কোনো কোনো সংবিধান বিশেষজ্ঞ মনে করেন গণ-অভ্যুত্থান বা জাতীয় বিপ্লব ছাড়া এই অনুচ্ছেদগুলোর পরিবর্তন বা সংশোধন সম্ভব নয়। তবে ভিন্ন মতাবলম্বীরা বলছেন, যে সংসদ এটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে সেই সংসদ তা বাতিলেরও এখতিয়ার রাখে।
জাতীয় সংসদে ২০১১ সালের ৩০ জুন সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন-২০১১ পাস হয়। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে বিলটি পাসের পক্ষে ২৯১ ও বিপক্ষে মাত্র একটি ভোট পড়ে। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি (জাপা), জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্যরা বিলটি পাসে ভোট দেন। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। এর মধ্যে আলোচিত সংশোধনীটি হচ্ছে সংবিধানের ৭(খ) অনুচ্ছেদটির সংযোজন। ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানেও বিধানটি ছিলো না। ৭(খ) অনুচ্ছেদে বলা হয়, 'সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসূমহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসূমহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।'
প্রসঙ্গত সংবিধানের প্রথম ভাগের ২(ক) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন। এছাড়াও সংবিধানের প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা, রাষ্ট্রভাষা, জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক, অফিস-আদালতে জাতির পিতার প্রতিকৃতি স্থাপন, সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিধানের বর্ণনা রয়েছে। এছাড়া সংবিধানের প্রথম ভাগে সর্বমোট ৭টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। এই অনুচ্ছেদগুলো কোনভাবেই পরিবর্তনযোগ্য নয়। সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে ৮ থেকে ২৫টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। এই অনুচ্ছেদগুলোকেও পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে চিরস্থায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ভাগের ৮(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা-এই নীতিসূমহ এবং তত্সহ এই নীতিসূমহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে। দ্বিতীয় ভাগে ধর্ম নিরপেক্ষতার নীতি বাস্তবায়নের নির্দেশনা, সম্পদের মালিকানা নীতি, সুযোগের সমতা, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ইত্যাদি রয়েছে।
তৃতীয় ভাগে ২৬ থেকে ৪৭ অনুচ্ছেদ রয়েছে। এই অংশে মৌলিক অধিকার পরিপন্থী আইন বাতিলের নির্দেশনা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্মের কারণে বৈষম্য না করা, নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার, চলাফেরা, সমাবেশ, সংগঠন ও ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং চিন্তা-বিবেক ও বাক স্বাধীনতা ইত্যাদির অধিকার দেয়া হয়েছে। এছাড়া সংবিধানের ১৫০ (২) অনুচ্ছেদে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ, বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার টেলিগ্রাম, ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ইত্যাদি সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব বিধানের কোন অংশই সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা বাতিল করা যাবে না।
প্রসঙ্গত এমন ধরনের একটি বিধান পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে (১৪২ (১ক) অনুচ্ছেদ) সংবিধানে সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে উল্লেখ ছিলো 'এই সংবিধানের প্রস্তাবনায় অথবা ৮, ৪৮ বা ৫৬ অনুচ্ছেদ অথবা এই অনুচ্ছেদের কোন বিধানাবলী সংশোধনের ব্যবস্থা রহিয়াছে এইরূপ কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের ৭ দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি দান করিবেন কি করিবেন না এ প্রশ্নে গণভোটের ব্যবস্থা করিবেন।' কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের বিধানটি বাতিল করে দেয়া হয়।
প্রসঙ্গত পঞ্চম সংশোধনীর মামলায় আপিল বিভাগও গণভোটের বিধান বাতিলের নির্দেশনা দিয়েছে। ফলে সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, বিয়োজন বা বাতিলের ক্ষেত্রে গণভোটের কোন বিধান বা জনগণের অভিমত নেয়ার কোন সুযোগ আর নেই।
এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলাম বলেন, 'সংবিধানের প্রস্তাবনা প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগে তিনশ' জন সংসদ সদস্য চাইলেও পরিবর্তন আনতে পারবেন না। জনগণের বিপ্লব ছাড়া এখানে হাত দেওয়া যাবে না। কারণ আমাদের পূর্বসুরীরা বিপ্লবের মাধ্যমে এই চার মূলনীতি প্রতিষ্ঠা করেছেন।' তিনি বলেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম-এই বিধান রাখায় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। যারা এই সংশোধনী করেছেন, তাদের নৈতিক সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে। তিনি প্রশ্ন করেন, 'আপনি যদি সংবিধানের মূল চার নীতিতে বিশ্বাস করেন, তাহলে পঞ্চদশ সংশোধনীর ওই বৈপরীত্য, কিভাবে সমর্থন করবেন?'
অন্যদিকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ৭(খ) অনুচ্ছেদ সংবিধানে যুক্ত করে জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এ রকম কোন বিধান সংবিধান সম্মত হতে পারে না। শুধু তাই নয় এর মাধ্যমে সংসদের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে। সংবিধানকে সংরক্ষণ, রক্ষা এবং সাংবিধানিক পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের যে ক্ষমতা সংসদ সদস্যদের রয়েছে তাও কেড়ে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট করেই উল্লেখ রয়েছে প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ করেন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ (১ক) অনুচ্ছেদ সংবিধানে যুক্ত করে কয়েকটি বিষয় সংশোধনের ক্ষমতা জনগণের উপর ন্যস্ত করা হয়। অর্থাত্ সংসদ যদি সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮ বা ৫৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনীর বিল পাস করে তবে তা অনুমোদনের আগে রাষ্ট্রপতি বিষয়টি গণভোটে দেবেন। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের গণভোটে অংশগ্রহণের ক্ষমতাও কেড়ে নেয়া হয়েছে। মওদুদ আহমদ বলেন, 'আমি মনে করি যে সংসদ ৭(খ) অনুচ্ছেদ সংবিধানে সংযুক্ত করতে পারে একই ধরনের আরেকটি সংসদ সেই অনুচ্ছেদকে বাতিলও করতে পারে। এটি একটি সংবিধান পরিপন্থী অনুচ্ছেদ। অবশ্যই এটিকে বাতিল করতে হবে।'
http://ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMDFfMTRfMTNfMV8xXzFfMTEyMzg=
No comments:
Post a Comment