সাইদুল ইসলাম
দৃশ্যপট-১।
রাজধানীর ফার্মগেট। পশ্চিমে ইন্দিরা রোড থেকে শুরু করে পূর্বে হলিক্রস
কলেজ। প্রায় তিনশ' গজের পথ পেরুতে সময় লেগেছে ১৫ মিনিট। ফুটওভার ব্রিজগুলো
থেকে শুরু করে ফুটপাথ কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই নাই। মানুষ আর মানুষ।
দৃশ্যপট-২। রাজধানীর গুলিস্তান। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু করে সাবেক গুলিস্তান সিনেমা হল পর্যন্ত পথ পেরুতে সময় লেগেছে ২৫ মিনিট। পথচারীদের ভিড় ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে গলদঘর্ম হতে হবে সবাইকে। শুধু ফার্মগেট বা গুলিস্তান নয়, রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে এখন শুধু মানুষ আর মানুষ। দিন দিন তা আরো বাড়ছে। মানুষ আসছে চারিদিক থেকে। বাড়তি জনসংখ্যার কল্যাণে মেগাসিটির পরিচয় পেয়েছে ঢাকা। কিন্তু মেগাসিটির বাসিন্দাদের অনেকেই নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাড়তি চাহিদা মেটাতে নগর সংস্থাগুলোর ত্রাহি অবস্থা। গত কয়েকদিনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে মেগাসিটির ভয়াবহ রূপ।
রাজধানী ঢাকা শহর মেগাসিটির পরিচয় পেয়েছে আগেই। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০০৭ সালে ঢাকা মেগাসিটির জনসংখ্যা ছিলো এক কোটি সাত লাখ। কোন জনসংখ্যা এক কোটি পেরোলেই সংশ্লিষ্ট শহরকে মেগাসিটি বলা হয়। সে হিসেবে ঢাকা অনেক আগেই মেগাসিটির তালিকায় এসেছে। জাতিসংঘের অন্য রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঢাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বছরে ৬ শতাংশ। সে হিসেবে ২০১৫ সালে ঢাকার জনসংখ্যা দাঁড়াবে এক কোটি ৭০ লাখে। এর ১০ বছর পর ২০২৫ সালে জনসংখ্যা দাঁড়াবে দুই কোটি ২৫ লাখে। তবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর এ. কে. এম. নুরুন নবী আরো ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০৪০ সালে বাংলাদেশের অর্ধেক মানুষ শহরে বাস করবে। ঢাকা শহরে জনসংখ্যার যে চাপ তাতে ওই সময়ে রাজধানীর জনসংখ্যার চাপ কেমন হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।
সর্বশেষ আদমশুমারিতে শহর এবং গ্রামের জনসংখ্যার অনুপাত দেখানো হয়নি। তবে অধ্যাপক নুরুন নবীর মতে, রাজধানীর জনসংখ্যা এখন দেড় কোটি ছাড়িয়েছে। তার মতে, ঢাকা মেগাসিটির রূপ পেলেও এর বৈশিষ্ট্য একেবারেই মেগাসিটির বিপরীত। শুধু জনসংখ্যা বাড়ার কারণে মেগাসিটি হওয়ায় তা অনেক ক্ষেত্রে বিপদ ডেকে আনছে। এ শহরে ৪০ শতাংশ মানুষ এখনো বস্তিতে বাস করে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বর্তমানে ঢাকায় প্রতি বর্গমাইল এলাকায় এক লাখ ১৫ হাজার লোক বাস করে। আর ঢাকার আয়তন ১৩৪ বর্গমাইল। আর সবচেয়ে জনবহুল শহর টোকিওতে প্রতি বর্গমাইল এলাকায় লোক বাস করে ১১ হাজার তিনশ' জন। জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে ঢাকা শহরের অবস্থান এক নম্বরে। যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস ক্যাপিটাল নিউইয়র্ক মেগাসিটি হলেও এর প্রতি বর্গমাইল এলাকায় মাত্র সাড়ে চার হাজার লোকের বাস। মেগাসিটি দিল্লিতে প্রতি বর্গমাইল এলাকায় বাস করে ৩০ হাজার লোক। কলকাতায়ও জনসংখ্যার ঘনত্ব এর কাছাকাছি।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, প্রতিদিন আশপাশের জেলাগুলো থেকে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ লোক ঢাকা শহরে প্রবেশ করছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস, আত্মীয় কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দেখা করাসহ নানা কারণে এসব লোক শহরে আসছে। দু'-একদিন পর তারা ফিরে যাচ্ছে নিজের জায়গায়। একসময়ে মানুষ চাকরি, ব্যবসা বাণিজ্য ও লেখাপড়া প্রভৃতি কারণে ঢাকায় আসলেও এখন বেশিরভাগ লোকই ঢাকায় আসছে নিঃস্ব অবস্থায়।
জাতিসংঘ রিপোর্টে দেখা গেছে, ১৯৭৪ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার আট শতাংশের কাছাকাছি বাস করতো রাজধানীতে। এক দশকের মধ্যে এ হার বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশের ওপরে। ২০১৫ সালে তা ৩৭ শতাংশের কাছাকাছি যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডক্টর নুরুন নবী মনে করেন, জনসংখ্যা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর হলে মনে করা হয়, অর্থনীতিতে পরিবর্তন ঘটছে। কিন্তু ঢাকা শহরের বেলায় তা ঘটছে না। বর্তমানে জনসংখ্যার যে অংশ ঢাকা শহরে আসছে তাদের অধিকাংশই নিঃস্ব বা গরীব। এদের অধিকাংশ আবার আশ্রয় নিচ্ছে বস্তি এলাকায়। তার মতে, রাজধানীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বাড়তি জনসংখ্যা। মেগাসিটিতে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা না পেয়ে এদের অনেকেই আইন মানছে না।
রাজধানীমুখী জনস্রোত বাড়ার কারণ সম্পর্কে নুরুন নবী বলেন, আমাদের দেশে বাস করার মতো বিকল্প শহর নেই। ভারত, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এটি আছে। তিনি বলেন, ৭০-এর দশকে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষিত শ্রেণী জেলা শহরে বাড়ি করে থেকেছেন। এখন মানুষের আকঙ্ক্ষা বদলেছে। এখন সবাই ভালো জিনিস চায়। আর জেলা শহরগুলোও আর আগের সে অবস্থায় নেই। কৃষি জমি কমে যাওয়াসহ নদী ভাঙ্গন এবং অন্যান্য কারণতো আছেই।
দৃশ্যপট-২। রাজধানীর গুলিস্তান। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু করে সাবেক গুলিস্তান সিনেমা হল পর্যন্ত পথ পেরুতে সময় লেগেছে ২৫ মিনিট। পথচারীদের ভিড় ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছাতে গলদঘর্ম হতে হবে সবাইকে। শুধু ফার্মগেট বা গুলিস্তান নয়, রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে এখন শুধু মানুষ আর মানুষ। দিন দিন তা আরো বাড়ছে। মানুষ আসছে চারিদিক থেকে। বাড়তি জনসংখ্যার কল্যাণে মেগাসিটির পরিচয় পেয়েছে ঢাকা। কিন্তু মেগাসিটির বাসিন্দাদের অনেকেই নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাড়তি চাহিদা মেটাতে নগর সংস্থাগুলোর ত্রাহি অবস্থা। গত কয়েকদিনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে মেগাসিটির ভয়াবহ রূপ।
রাজধানী ঢাকা শহর মেগাসিটির পরিচয় পেয়েছে আগেই। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০০৭ সালে ঢাকা মেগাসিটির জনসংখ্যা ছিলো এক কোটি সাত লাখ। কোন জনসংখ্যা এক কোটি পেরোলেই সংশ্লিষ্ট শহরকে মেগাসিটি বলা হয়। সে হিসেবে ঢাকা অনেক আগেই মেগাসিটির তালিকায় এসেছে। জাতিসংঘের অন্য রিপোর্টে বলা হয়েছে, ঢাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বছরে ৬ শতাংশ। সে হিসেবে ২০১৫ সালে ঢাকার জনসংখ্যা দাঁড়াবে এক কোটি ৭০ লাখে। এর ১০ বছর পর ২০২৫ সালে জনসংখ্যা দাঁড়াবে দুই কোটি ২৫ লাখে। তবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর এ. কে. এম. নুরুন নবী আরো ভয়াবহ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০৪০ সালে বাংলাদেশের অর্ধেক মানুষ শহরে বাস করবে। ঢাকা শহরে জনসংখ্যার যে চাপ তাতে ওই সময়ে রাজধানীর জনসংখ্যার চাপ কেমন হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।
সর্বশেষ আদমশুমারিতে শহর এবং গ্রামের জনসংখ্যার অনুপাত দেখানো হয়নি। তবে অধ্যাপক নুরুন নবীর মতে, রাজধানীর জনসংখ্যা এখন দেড় কোটি ছাড়িয়েছে। তার মতে, ঢাকা মেগাসিটির রূপ পেলেও এর বৈশিষ্ট্য একেবারেই মেগাসিটির বিপরীত। শুধু জনসংখ্যা বাড়ার কারণে মেগাসিটি হওয়ায় তা অনেক ক্ষেত্রে বিপদ ডেকে আনছে। এ শহরে ৪০ শতাংশ মানুষ এখনো বস্তিতে বাস করে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বর্তমানে ঢাকায় প্রতি বর্গমাইল এলাকায় এক লাখ ১৫ হাজার লোক বাস করে। আর ঢাকার আয়তন ১৩৪ বর্গমাইল। আর সবচেয়ে জনবহুল শহর টোকিওতে প্রতি বর্গমাইল এলাকায় লোক বাস করে ১১ হাজার তিনশ' জন। জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে ঢাকা শহরের অবস্থান এক নম্বরে। যুক্তরাষ্ট্রের বিজনেস ক্যাপিটাল নিউইয়র্ক মেগাসিটি হলেও এর প্রতি বর্গমাইল এলাকায় মাত্র সাড়ে চার হাজার লোকের বাস। মেগাসিটি দিল্লিতে প্রতি বর্গমাইল এলাকায় বাস করে ৩০ হাজার লোক। কলকাতায়ও জনসংখ্যার ঘনত্ব এর কাছাকাছি।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, প্রতিদিন আশপাশের জেলাগুলো থেকে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ লোক ঢাকা শহরে প্রবেশ করছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস, আত্মীয় কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে দেখা করাসহ নানা কারণে এসব লোক শহরে আসছে। দু'-একদিন পর তারা ফিরে যাচ্ছে নিজের জায়গায়। একসময়ে মানুষ চাকরি, ব্যবসা বাণিজ্য ও লেখাপড়া প্রভৃতি কারণে ঢাকায় আসলেও এখন বেশিরভাগ লোকই ঢাকায় আসছে নিঃস্ব অবস্থায়।
জাতিসংঘ রিপোর্টে দেখা গেছে, ১৯৭৪ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার আট শতাংশের কাছাকাছি বাস করতো রাজধানীতে। এক দশকের মধ্যে এ হার বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২০ শতাংশের ওপরে। ২০১৫ সালে তা ৩৭ শতাংশের কাছাকাছি যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডক্টর নুরুন নবী মনে করেন, জনসংখ্যা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর হলে মনে করা হয়, অর্থনীতিতে পরিবর্তন ঘটছে। কিন্তু ঢাকা শহরের বেলায় তা ঘটছে না। বর্তমানে জনসংখ্যার যে অংশ ঢাকা শহরে আসছে তাদের অধিকাংশই নিঃস্ব বা গরীব। এদের অধিকাংশ আবার আশ্রয় নিচ্ছে বস্তি এলাকায়। তার মতে, রাজধানীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে বাড়তি জনসংখ্যা। মেগাসিটিতে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা না পেয়ে এদের অনেকেই আইন মানছে না।
রাজধানীমুখী জনস্রোত বাড়ার কারণ সম্পর্কে নুরুন নবী বলেন, আমাদের দেশে বাস করার মতো বিকল্প শহর নেই। ভারত, পাকিস্তানসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এটি আছে। তিনি বলেন, ৭০-এর দশকে বাংলাদেশের অনেক শিক্ষিত শ্রেণী জেলা শহরে বাড়ি করে থেকেছেন। এখন মানুষের আকঙ্ক্ষা বদলেছে। এখন সবাই ভালো জিনিস চায়। আর জেলা শহরগুলোও আর আগের সে অবস্থায় নেই। কৃষি জমি কমে যাওয়াসহ নদী ভাঙ্গন এবং অন্যান্য কারণতো আছেই।
http://ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMTJfMTRfMTJfMV8xXzFfMzU0OQ==
No comments:
Post a Comment