ভোরের কাগজ : সোমবার, ৯ জানুয়ারি ২০১২
এম এ বাবর :
এম এ বাবর :
আওয়ামী লীগ সরকার বিগত ৩ বছরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে কঠোর পদক্ষেপ না নেয়া এবং সুশাসনে ঘাটতির কারণে সরকার সার্বিকভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধে সফল হয়নি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও শক্তিশালী দুর্নীতি বিরোধী কমিশন প্রয়োজন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সেবামূলক খাতসমূহে ¯^চ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ক্ষমতা গ্রহণের পরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এমপি ও মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব জমা নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ ব্যাপক সুনাম অর্জন করলেও বাস্তবে দুর্নীতি প্রতিরোধে ওই ব্যবস্থাও সফল হয়নি। যার ফলে অতীতের তুলনায় দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার না ঘটলেও সার্বিকভাবে দুর্নীতি কমেনি।
দুর্নীতির খানা জরিপ চিত্র :
জার্মানির বার্লিন ভিত্তিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) গত ১ ডিসে¤^রে প্রকাশিত সিপিআই জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ দুর্নীতি দমনে ভালো করছে। সংস্থাটির সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দুর্নীতির ধারণা সূচকের (২০১১) ০-১০ এর স্কেলে বাংলাদেশের স্কোর ২.৭ যা গত বছরের তুলনায় ০.৩ বেশি। টিআই-এর জরিপে বাংলাদেশ ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তালিকায় সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ ২.০ স্কোর করায় নিম্নক্রম অনুসারে ১৮২টি দেশের মধ্যে ৩য় অবস্থানে থাকে। পরবর্তীতে সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধে পর্যায়ক্রমে ব্যাপক পদক্ষেপ নিতে থাকে। যার ফলে ২০০৮ সালে ২.১ স্কোর করায় নিম্নক্রম অনুসারে ১৮২টি দেশের মধ্যে ১০ম, ২০০৯ সালে ২.৪ স্কোর করায় নিম্নক্রম অনুসারে ১৮২টি দেশের মধ্যে ১৩তম, ২০১০ সালে ২.৪ স্কোর করায় নিম্নক্রম অনুসারে ১৮৭টি দেশের মধ্যে ১২তম, সর্বশেষ ২০১১ সালে ১৮৭টি দেশের মধ্যে ২.৭ স্কোর পেয়ে নিম্নক্রম অনুসারে ১৩তম অবস্থানে থাকে বাংলাদেশ। টিআই-এর জরিপে যে দেশগুলো ০-১০ এর স্কেলে ৩ বা তার কম স্কোর পেয়ে তালিকার নিচে অবস্থান করে সেই দেশগুলোতে দুর্নীতির ব্যাপকতা উদ্বেগজনকভাবে বেশি বলে ধারণা করা হয়।
টিআইবি এবং টিআই-এর গবেষণা থেকে জানা যায়, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকার বিগত ৩ বছরে বেশ কিছু কারণে দুর্নীতি প্রতিরোধে আশানুরূপ সফল হয়নি। সে সব কারণের মধ্যে উল্ল্যেখযাগ্য হচ্ছেÑ ¯^াধীনতা নিশ্চিত করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী না করা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন না করা। ¶মতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ যাচাই না করা। রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরের ঘুষ, দুর্নীতি উচ্ছেদ, অনুপার্জিত আয়, ঋণখেলাপি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কালোটাকা ও পেশিশক্তি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।
এদিকে সংস্থাটির গবেষণায় আরো জানা গেছে, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার কারণে সার্বিকভাবে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটেনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলোÑ দুর্নীতি দমনের জন্য সহায়ক তথ্য অধিকার আইন ও জন¯^ার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রদান সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা। দুর্নীতির অভিযোগকারীর নিরাপত্তা বিধান সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন। জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদ বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জন্য ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ। কাজের গতি বৃদ্ধিতে দুদকে উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক এবং উপ-সহকারী পরিচালকের বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়া। এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সরকারি চাকুরেদের সম্পদ বিবরণী দাখিল, যাচাই ও সংর¶ণের জন্য গৃহীত উদ্যোগ সমূহও ইতিবাচক।
দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রম :
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতি প্রতিরোধে অতীতের তুলনায় ভালো করছে বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। দুদকের হিসাব অনুযায়ী নানা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৯ সালে মামলা দায়ের করা হয়েছে ২৩৪টি, ২০১০ সালে ২৭৪টি ও ২০১১ সালে ৩৬৬টি। ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১১ সালে মামলার পরিমাণ বেড়েছে ৩৬%। এছাড়া কমিশন বিভিন্ন মামলার চার্জশিট দিয়েছে ২০০৯ সালে ৪৭৫টি, ২০১০ সালে ৫৩৬টি এবং ২০১১ সালে ৬১৬টি। ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১১ সালে চার্জশিট দেয়ার পরিমাণ বেড়েছে ২২%।
দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, আমাদের দেশে দুর্নীতির বিস্তর ব্যাপক। প্রশাসনিক ও সেবা খাতসহ প্রায় প্রতিটি খাতেই দুর্নীতি বিদ্যমান। তাই একক কোনো প্রতিষ্ঠানের প¶ে কিছু মামলা করে দুর্নীতি দূর করা সম্ভব নয়। এছাড়া দুর্নীতির ব্যাপকতার তুলনায় কমিশনের কাজের পরিধি কম। তবুও দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছে। যেখানে অর্থ আছে, সেখানেই দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে। তাই দুর্নীতি রোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি সবাইকে কার্যকর পদ¶েপ নিতে হবে। নচেৎ দুর্নীতির এই মহামারী সহসা দূর করা যাবে না।
সুশীল সমাজের বক্তব্য : বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিক বলেন, সার্বিকভাবে দেশের দুর্নীতি কমেনি। প্রশাসনে বিদ্যমান দুর্নীতির কারণে জনগণ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নেতিবাচক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এতে করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে সেবা খাতসমূহসহ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে ¯^চ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, টিআইবির ধারণা সূচক স্কোরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেই দুর্নীতির ব্যাপকতা কমেছে বলা যাবে না। বাংলাদেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমনে সরকারের কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি থাকলেও অনেক ¶েত্রে সুফল অর্জিত হয়নি। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রæতিতে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, প্রশাসনে দলীয়করণমুক্ত অরাজনৈতিক গণমুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। যার কারণে দুর্নীতির ব্যাপকতা রয়েই গেছে।
বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্সড স্টাডিজ (বিসিএএস) এর প্রধান নির্বাহী ড. আতিক রহমান বলেন, দুর্নীতি করার পরও কোনো জবাবদিহিতা না করার সংস্কৃতি থেকে সরকার এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি। যার কারণে সেবা খাতসমূহে দুর্নীতির ব্যাপকতা বিদ্যমান। অথচ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল বক্তব্য ছিল সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। কিন্তু সরকার গঠনের পর নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি খুবই কম।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সার্বিকভাবে দেশে দুর্নীতি কমেনি। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কিছু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গৃহীত হলেও ব্যর্থতার ভারে অগ্রগতির গুরুত্ব ক্রমাগতই ম্লান হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশনগুলো রাজনৈতিক হস্ত¶েপ এবং ¶মতাসীন সরকারের প্রভাবে ¯^াভাবিক ও সহজাত কার্যক্রম চালাতে পারছে না। দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের ¯^াধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু ¶েত্রে বিগত ৩ বছরে সরকারের পদ¶েপ ইতিবাচক ছিল না।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও শক্তিশালী দুর্নীতি বিরোধী কমিশন প্রয়োজন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সেবামূলক খাতসমূহে ¯^চ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারেনি। ক্ষমতা গ্রহণের পরে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে এমপি ও মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাব জমা নেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ ব্যাপক সুনাম অর্জন করলেও বাস্তবে দুর্নীতি প্রতিরোধে ওই ব্যবস্থাও সফল হয়নি। যার ফলে অতীতের তুলনায় দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার না ঘটলেও সার্বিকভাবে দুর্নীতি কমেনি।
দুর্নীতির খানা জরিপ চিত্র :
জার্মানির বার্লিন ভিত্তিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) গত ১ ডিসে¤^রে প্রকাশিত সিপিআই জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ দুর্নীতি দমনে ভালো করছে। সংস্থাটির সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী দুর্নীতির ধারণা সূচকের (২০১১) ০-১০ এর স্কেলে বাংলাদেশের স্কোর ২.৭ যা গত বছরের তুলনায় ০.৩ বেশি। টিআই-এর জরিপে বাংলাদেশ ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তালিকায় সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। ২০০৬ সালে বাংলাদেশ ২.০ স্কোর করায় নিম্নক্রম অনুসারে ১৮২টি দেশের মধ্যে ৩য় অবস্থানে থাকে। পরবর্তীতে সরকার দুর্নীতি প্রতিরোধে পর্যায়ক্রমে ব্যাপক পদক্ষেপ নিতে থাকে। যার ফলে ২০০৮ সালে ২.১ স্কোর করায় নিম্নক্রম অনুসারে ১৮২টি দেশের মধ্যে ১০ম, ২০০৯ সালে ২.৪ স্কোর করায় নিম্নক্রম অনুসারে ১৮২টি দেশের মধ্যে ১৩তম, ২০১০ সালে ২.৪ স্কোর করায় নিম্নক্রম অনুসারে ১৮৭টি দেশের মধ্যে ১২তম, সর্বশেষ ২০১১ সালে ১৮৭টি দেশের মধ্যে ২.৭ স্কোর পেয়ে নিম্নক্রম অনুসারে ১৩তম অবস্থানে থাকে বাংলাদেশ। টিআই-এর জরিপে যে দেশগুলো ০-১০ এর স্কেলে ৩ বা তার কম স্কোর পেয়ে তালিকার নিচে অবস্থান করে সেই দেশগুলোতে দুর্নীতির ব্যাপকতা উদ্বেগজনকভাবে বেশি বলে ধারণা করা হয়।
টিআইবি এবং টিআই-এর গবেষণা থেকে জানা যায়, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকার বিগত ৩ বছরে বেশ কিছু কারণে দুর্নীতি প্রতিরোধে আশানুরূপ সফল হয়নি। সে সব কারণের মধ্যে উল্ল্যেখযাগ্য হচ্ছেÑ ¯^াধীনতা নিশ্চিত করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী না করা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন না করা। ¶মতাধরদের বার্ষিক সম্পদ বিবরণ যাচাই না করা। রাষ্ট্র ও সমাজের সকল স্তরের ঘুষ, দুর্নীতি উচ্ছেদ, অনুপার্জিত আয়, ঋণখেলাপি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, কালোটাকা ও পেশিশক্তি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা।
এদিকে সংস্থাটির গবেষণায় আরো জানা গেছে, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার কারণে সার্বিকভাবে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটেনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো হলোÑ দুর্নীতি দমনের জন্য সহায়ক তথ্য অধিকার আইন ও জন¯^ার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রদান সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং তথ্য কমিশন প্রতিষ্ঠা। দুর্নীতির অভিযোগকারীর নিরাপত্তা বিধান সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন। জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী সনদ বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জন্য ঢাকায় এবং ঢাকার বাইরে প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ। কাজের গতি বৃদ্ধিতে দুদকে উপ-পরিচালক, সহকারী পরিচালক এবং উপ-সহকারী পরিচালকের বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগ দেয়া। এছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সরকারি চাকুরেদের সম্পদ বিবরণী দাখিল, যাচাই ও সংর¶ণের জন্য গৃহীত উদ্যোগ সমূহও ইতিবাচক।
দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যক্রম :
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতি প্রতিরোধে অতীতের তুলনায় ভালো করছে বলে দাবি করেন প্রতিষ্ঠানটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা। দুদকের হিসাব অনুযায়ী নানা দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৯ সালে মামলা দায়ের করা হয়েছে ২৩৪টি, ২০১০ সালে ২৭৪টি ও ২০১১ সালে ৩৬৬টি। ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১১ সালে মামলার পরিমাণ বেড়েছে ৩৬%। এছাড়া কমিশন বিভিন্ন মামলার চার্জশিট দিয়েছে ২০০৯ সালে ৪৭৫টি, ২০১০ সালে ৫৩৬টি এবং ২০১১ সালে ৬১৬টি। ২০০৯ সালের তুলনায় ২০১১ সালে চার্জশিট দেয়ার পরিমাণ বেড়েছে ২২%।
দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, আমাদের দেশে দুর্নীতির বিস্তর ব্যাপক। প্রশাসনিক ও সেবা খাতসহ প্রায় প্রতিটি খাতেই দুর্নীতি বিদ্যমান। তাই একক কোনো প্রতিষ্ঠানের প¶ে কিছু মামলা করে দুর্নীতি দূর করা সম্ভব নয়। এছাড়া দুর্নীতির ব্যাপকতার তুলনায় কমিশনের কাজের পরিধি কম। তবুও দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশন সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছে। যেখানে অর্থ আছে, সেখানেই দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে। তাই দুর্নীতি রোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি সবাইকে কার্যকর পদ¶েপ নিতে হবে। নচেৎ দুর্নীতির এই মহামারী সহসা দূর করা যাবে না।
সুশীল সমাজের বক্তব্য : বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহ্দীন মালিক বলেন, সার্বিকভাবে দেশের দুর্নীতি কমেনি। প্রশাসনে বিদ্যমান দুর্নীতির কারণে জনগণ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নেতিবাচক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এতে করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে সেবা খাতসমূহসহ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে ¯^চ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সাবেক তত্ত¡াবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, টিআইবির ধারণা সূচক স্কোরে কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলেই দুর্নীতির ব্যাপকতা কমেছে বলা যাবে না। বাংলাদেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি দমনে সরকারের কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি থাকলেও অনেক ¶েত্রে সুফল অর্জিত হয়নি। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রæতিতে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, প্রশাসনে দলীয়করণমুক্ত অরাজনৈতিক গণমুখী প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। যার কারণে দুর্নীতির ব্যাপকতা রয়েই গেছে।
বাংলাদেশ সেন্টার ফর এডভান্সড স্টাডিজ (বিসিএএস) এর প্রধান নির্বাহী ড. আতিক রহমান বলেন, দুর্নীতি করার পরও কোনো জবাবদিহিতা না করার সংস্কৃতি থেকে সরকার এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি। যার কারণে সেবা খাতসমূহে দুর্নীতির ব্যাপকতা বিদ্যমান। অথচ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল বক্তব্য ছিল সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ করা। কিন্তু সরকার গঠনের পর নির্বাচনী প্রতিশ্রæতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি খুবই কম।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সার্বিকভাবে দেশে দুর্নীতি কমেনি। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কিছু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গৃহীত হলেও ব্যর্থতার ভারে অগ্রগতির গুরুত্ব ক্রমাগতই ম্লান হচ্ছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কমিশনগুলো রাজনৈতিক হস্ত¶েপ এবং ¶মতাসীন সরকারের প্রভাবে ¯^াভাবিক ও সহজাত কার্যক্রম চালাতে পারছে না। দুর্নীতি দমন, বিচার বিভাগের ¯^াধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাসহ বেশ কিছু ¶েত্রে বিগত ৩ বছরে সরকারের পদ¶েপ ইতিবাচক ছিল না।
http://www.bhorerkagoj.net/new/blog/2012/01/09/34730.php
No comments:
Post a Comment