Saturday, December 22, 2012

বিজয় দিবসে প্রাণের উচ্ছ্বাস :

এম এ বাবর:
প্রাণের উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত বাঙালি হাতে ফুল আর মুখে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি নিয়ে ছুটে এসেছিলেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে। গতকাল রোববার রাজধানীর সব পথ যেন মিশে গিয়েছিল জাতীয় স্মৃতিসৌধে। অলি-গলি, রাজপথে ছড়িয়ে পড়েছিল বিজয়ের আনন্দের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবির অনুরণন। অসমাপ্ত দায়িত্ব পালনের শপথ নিয়ে বিজয়ের ৪১ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে বাংলাদেশ।

সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে আসেন লাখো মানুষ। বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধায় ফুলে ফুলে ভরিয়ে দেয় ত্রিশ লাখ শহীদের স্মৃতির মিনার। ভোরের সূর্য ওঠার আরো কয়েক ঘণ্টা আগে থেকেই স্মৃতিসৌধের সামনে শত-সহস্র মানুষের ভিড় জমে। তাদের শ্রদ্ধায় অবনত শির আর চোখে একাত্তরের ঘাতক রাজাকার-আলবদরদের প্রতি ঘৃণার আগুন। যেন একাত্তরের মতোই জেগে উঠেছিল গোটা জাতি।
রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান চিকিৎসার জন্য বিদেশে থাকায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভোর সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে স্মৃতিসৌধের ফটকে পৌঁছেন। তিন বাহিনীর চৌকস দল এ সময় তাকে সালাম জানায়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুরের মূর্ছনা। এরপর শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তার সঙ্গে ছিলেন কূটনীতিক, মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বিদেশি বন্ধু, উচ্চপদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা। প্রধানমন্ত্রীর পর স্মৃতিসৌধে ফুল দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার আব্দুল হামিদ ও প্রধান বিচারপতি মোজাম্মেল হোসেন। এরপর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে নেতাকর্মীদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। শ্রদ্ধা জানানো শেষে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার ইনশআল্লাহ আগামী বিজয় দিবসের আগেই হবে। এবং রায়ও কার্যকর করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হয় সবার জন্য।
বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া ৭টা ৩৮ মিনিটে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান একাত্তরের শহীদদের। তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এ সময় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘সমস্ত জাতির মতো আমরাও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। কিন্তু আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কারণে এত দিন পর এ বিচার শুরু করেছে। কারণ তারা ’৭২ থেকে ’৭৫ সালের পর ৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করেনি।’ শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধা জানান সেক্টর কমান্ডার ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন। এরপর জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, গণফোরাম, সাম্যবাদী দল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, গ্রগতিশীল গণতান্ত্রিক পার্টি, জাকের পার্টি একে একে আসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে।
পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য-কর্মকর্তা-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্ম কমিশন ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডসহ সাধারণ মানুষ।
শ্রদ্ধা জানাতে এসে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। জাতীয় পার্টি মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, দেশের মানুষ জাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের কখনো ভুলতে পারে না। বিজয়ের ৪১তম বার্ষিকীতে স্মৃতিসৌধে মানুষের ঢল এটাই প্রমাণ করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি এখন শান্তিকামী সব মানুষের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
http://manobkantha.com/archive_details.php?id=98441&&%20page_id=%205&issue_date=%202012-12-17

http://www.emanobkantha.com/2012/12/17/

No comments: