তদন্ত রিপোর্ট পেশ :অভিযুক্ত ৯ জন
হকিকত জাহান হকি
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে গোল বেধেছে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে নিয়ে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নয়জন সম্ভাব্য আসামির তালিকা থেকে সৈয়দ আবুল হোসেনের নাম বাদ দিতে চাচ্ছে। দুদক বলছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিশ্বব্যাংক আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, দুর্নীতির ষড়যন্ত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মামলায় আসামি করা যাবে। অভিযোগ তদন্তের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, আবুল হোসেনকে এ মামলায় আসামি করা না হলে বিশ্বব্যাংক সেতু বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ফিরে নাও আসতে পারে। আবুল হোসেনকে আসামি করা-না করার বিষয়ে একমত না হওয়ায় গতকাল দুদকের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের বৈঠক স্থগিত হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পেঁৗছতে আজ বিকেলে দুদকের সঙ্গে প্যানেল আবার বৈঠকে বসবে।
দুদক জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির একটি ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে গতকাল দুদক ও বিশ্বব্যাংক একমত হয়েছে। তদন্ত কমিটি গতকাল তদন্ত রিপোর্ট কমিশনে পেশ
করেছে। কমিশন বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ প্যানেল সদস্যদের উপস্থিতিতে বৈঠকে তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার গতকাল স্বাক্ষর করেননি। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। আজ বিকেল ৩টায় বৈঠকে আবুল হোসেনকে আসামি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আজ সন্ধ্যায় অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করা হবে।
সম্ভাব্য আসামির তালিকায় রয়েছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সেতু বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাফর উল্লাহ, সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী ফেরদৌস, কানাডিয়ান কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, এই কোম্পানির আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ, একই বিভাগের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল, এসএনসি-লাভালিনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট লিমিটেডের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার নাম।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ১০ মিনিট থেকে পৌনে ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের সঙ্গে বৈঠক হয় বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের নেতা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রধান আইনজীবী লুই গ্যাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বে প্যানেল সদস্য হংকংয়ের দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক প্রধান টিমোথি টং ও যুক্তরাজ্যের সিরিয়াস ফ্রড অফিসের সাবেক পরিচালক রিচার্ড এল্ডারম্যান, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন, দুদক কমিশনার মো. বদিউজ্জামান, মো. সাহাবুদ্দিন ও দুদকের আইন উপদেষ্টা আনিসুল হক।
বৈঠকে দুদকের বিশেষ তদন্ত কমিটির সিনিয়র উপপরিচালক আবদুল্লা-আল-জাহিদ, মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ও উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক কর্তৃক দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া, অন্যান্য ক্ষেত্রে অবহেলা ও রমেশের ডায়েরিতে ঘুষের তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউরের নাম থাকার পরও তাকে মামলায় আসামি করা হচ্ছে না। টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সঙ্গে যুক্ত একজন নামি ব্যক্তিকেও আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল। পরে তাকে আসামি করার বিষয়টি স্থগিত করা হয়।
গতকাল দুদকের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের সঙ্গে আরও আলোচনা প্রয়োজন। আজ আলোচনা করে সমাধানে পেঁৗছা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে, তবে অর্থ লেনদেন হয়নি। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সহসাই মামলা করা হবে। আসামির সংখ্যা হবে ১০ জনের নিচে। দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে বা যৌথভাবে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করেছেন, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদেরকেই মামলার আসামি করা হবে।
দুদক সূত্র জানায়, প্রথম টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয় পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে। পরে এ কমিটি ভেঙে দিয়ে গঠন করা হয় বুয়েটের অধ্যাপক সেকান্দার আলীর নেতৃত্বে দ্বিতীয় কমিটি। এরপর আবারও কমিটি ভেঙে গঠন করা হয় সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে। পরে এ কমিটি ভেঙে দিয়ে গঠন করা হয় বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে সর্বশেষ কমিটি। এই ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে সময় চলে যায় এক বছর ১০ মাস। এই সময়ের মধ্যেই দুর্নীতির ষড়যন্ত্র করা হয়।
জানা গেছে, পদ্মা সেতুর অর্থায়নের সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সরকারকে একাধিকবার দেওয়ার পরও সরকারের কাছ থেকে যথাযথ সাড়া না পাওয়ায় বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষ ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে গত ২৯ জুন। সরকার অভিযোগ তদন্তে বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই করার পর বিশ্বব্যাংক আবার অর্থায়নে ফিরে আসার ঘোষণা দেয় গত ২০ সেপ্টেম্বর।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক
সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেল মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবি্লউ মজীনার গুলশানের বাসভবনে সাক্ষাৎ করেছে। সেখানে তারা ঘণ্টাখানেক অবস্থান করেন।
পদ্মা সেতু বিষয়েই তাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে সোমবার সকাল ১০টায় ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ প্যানেলের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থানকালে তিনি পদ্মা সেতু দুর্নীতিসহ নানা আইনি জটিলতার বিষয়ে কথা বলেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে গোল বেধেছে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে নিয়ে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নয়জন সম্ভাব্য আসামির তালিকা থেকে সৈয়দ আবুল হোসেনের নাম বাদ দিতে চাচ্ছে। দুদক বলছে, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে বিশ্বব্যাংক আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, দুর্নীতির ষড়যন্ত্র ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মামলায় আসামি করা যাবে। অভিযোগ তদন্তের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, আবুল হোসেনকে এ মামলায় আসামি করা না হলে বিশ্বব্যাংক সেতু বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ফিরে নাও আসতে পারে। আবুল হোসেনকে আসামি করা-না করার বিষয়ে একমত না হওয়ায় গতকাল দুদকের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের বৈঠক স্থগিত হয়। এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পেঁৗছতে আজ বিকেলে দুদকের সঙ্গে প্যানেল আবার বৈঠকে বসবে।
দুদক জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির একটি ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে গতকাল দুদক ও বিশ্বব্যাংক একমত হয়েছে। তদন্ত কমিটি গতকাল তদন্ত রিপোর্ট কমিশনে পেশ
করেছে। কমিশন বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ প্যানেল সদস্যদের উপস্থিতিতে বৈঠকে তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার গতকাল স্বাক্ষর করেননি। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রেও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। আজ বিকেল ৩টায় বৈঠকে আবুল হোসেনকে আসামি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আজ সন্ধ্যায় অথবা আগামীকাল বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করা হবে।
সম্ভাব্য আসামির তালিকায় রয়েছেন সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সেতু বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাফর উল্লাহ, সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী ফেরদৌস, কানাডিয়ান কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, এই কোম্পানির আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ, একই বিভাগের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ ইসমাইল, এসএনসি-লাভালিনের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্ট লিমিটেডের কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফার নাম।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টা ১০ মিনিট থেকে পৌনে ৫টা পর্যন্ত রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের সঙ্গে বৈঠক হয় বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের নেতা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রধান আইনজীবী লুই গ্যাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পোর নেতৃত্বে প্যানেল সদস্য হংকংয়ের দুর্নীতিবিরোধী স্বাধীন কমিশনের সাবেক প্রধান টিমোথি টং ও যুক্তরাজ্যের সিরিয়াস ফ্রড অফিসের সাবেক পরিচালক রিচার্ড এল্ডারম্যান, বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন, দুদক কমিশনার মো. বদিউজ্জামান, মো. সাহাবুদ্দিন ও দুদকের আইন উপদেষ্টা আনিসুল হক।
বৈঠকে দুদকের বিশেষ তদন্ত কমিটির সিনিয়র উপপরিচালক আবদুল্লা-আল-জাহিদ, মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ও উপপরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বিশ্বব্যাংক কর্তৃক দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া, অন্যান্য ক্ষেত্রে অবহেলা ও রমেশের ডায়েরিতে ঘুষের তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউরের নাম থাকার পরও তাকে মামলায় আসামি করা হচ্ছে না। টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সঙ্গে যুক্ত একজন নামি ব্যক্তিকেও আসামির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল। পরে তাকে আসামি করার বিষয়টি স্থগিত করা হয়।
গতকাল দুদকের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। এ বিষয়ে দুদকের সঙ্গে আরও আলোচনা প্রয়োজন। আজ আলোচনা করে সমাধানে পেঁৗছা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। দুর্নীতির ষড়যন্ত্র হয়েছে, তবে অর্থ লেনদেন হয়নি। ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সহসাই মামলা করা হবে। আসামির সংখ্যা হবে ১০ জনের নিচে। দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, যারা ব্যক্তিগতভাবে বা যৌথভাবে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করেছেন, তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদেরকেই মামলার আসামি করা হবে।
দুদক সূত্র জানায়, প্রথম টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি গঠন করা হয় পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে। পরে এ কমিটি ভেঙে দিয়ে গঠন করা হয় বুয়েটের অধ্যাপক সেকান্দার আলীর নেতৃত্বে দ্বিতীয় কমিটি। এরপর আবারও কমিটি ভেঙে গঠন করা হয় সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে। পরে এ কমিটি ভেঙে দিয়ে গঠন করা হয় বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে সর্বশেষ কমিটি। এই ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে সময় চলে যায় এক বছর ১০ মাস। এই সময়ের মধ্যেই দুর্নীতির ষড়যন্ত্র করা হয়।
জানা গেছে, পদ্মা সেতুর অর্থায়নের সঙ্গে সরকারের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সরকারকে একাধিকবার দেওয়ার পরও সরকারের কাছ থেকে যথাযথ সাড়া না পাওয়ায় বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষ ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে গত ২৯ জুন। সরকার অভিযোগ তদন্তে বিশ্বব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সই করার পর বিশ্বব্যাংক আবার অর্থায়নে ফিরে আসার ঘোষণা দেয় গত ২০ সেপ্টেম্বর।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক
সোমবার সন্ধ্যায় বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেল মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবি্লউ মজীনার গুলশানের বাসভবনে সাক্ষাৎ করেছে। সেখানে তারা ঘণ্টাখানেক অবস্থান করেন।
পদ্মা সেতু বিষয়েই তাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে গুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনে সোমবার সকাল ১০টায় ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ প্যানেলের সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থানকালে তিনি পদ্মা সেতু দুর্নীতিসহ নানা আইনি জটিলতার বিষয়ে কথা বলেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।
No comments:
Post a Comment