Friday, December 28, 2012

অভিভাবকহীন ডিসিসি :

ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া:
নাগরিকসেবা বৃদ্ধির কথা বলে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে (ডিসিসি) দু’ভাগে বিভক্ত করা হয়েছিল ২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর। তারপর ১৩ মাসে এই বিভক্তি নগরবাসীর জন্য দুর্ভোগেরই কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরো সময়ই অভিভাবকহীন সংস্থাটি। তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন  হওয়ার কথা ছিল। তা এখনো হয়নি। কবে সেই নির্বাচন হবে তা-ও কেউ জানে না।
তিন মাস পরপর প্রশাসক আসছেন, আর বিদায় নিচ্ছেন। নতুন অর্গানোগ্রাম না হওয়ায় জনবল বিভাজন সম্পন্ন হয়নি। ফলে এক অংশে অতিরিক্ত জনবল অন্য অংশে চলছে সঙ্কট। এক অংশে আর্থিক সঙ্কট অন্য অংশে কর্মকর্তাদের আলাদা অফিস নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের মতো করে অফিস করছেন। তদারকি আর জবাবদিহিতার অভাবে সর্বত্র অনিয়ম-দুনীর্তির বিস্তার ঘটেছে। রাস্তাঘাটের সংস্কার, মশক নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ কাজ চলছে নামমাত্র। নাগরিক সনদ, জন্ম সনদ, ওয়ারিশান সনদ, মৃত্যু সনদ নিতে গিয়েও হয়রানির শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। জনপ্রতিনিধি না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের দুর্ভোগের ব্যাপারে অভিযোগ করারও সুযোগও পাচ্ছেন না। এ ছাড়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলোও চলছে ঢিমেতালে। ফাইওভার নির্মাণসহ অন্যান্য বড় কোনো প্রকল্পই নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না।
ভেঙে পড়েছে নাগরিকসেবা : মেয়র ও কাউন্সিলর না থাকায় এক বছরে ডিসিসির নাগরিকসেবা ভেঙে পড়েছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ নিয়ে মাথা ঘামানোর লোকÑ ওয়ার্ড কাউন্সিলররাও নেই। ফলে রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়া, স্যুয়ারেজ লাইন উপচে পড়া, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সঙ্কট, মশা, আবর্জনার সমস্যাসহ স্থানীয় সমস্যাগুলো যেন দেখার কেউ নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভালো জায়গায় পোস্টিং বিশেষ করে উত্তর ডিসিসিতে বদলির তদবিরেই ব্যস্ত থেকেছেন পুরো বছর। আবার অনেক কর্মকর্তা অফিসে আসা যাওয়া এবং না পারলে নয়Ñ এমন ফাইলে স্বাক্ষর করা ছাড়া আর কিছুই করেননি। উভয় অংশে গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ খালি থাকার কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।
আবর্জনা অপসারণকাজে ভাটা : আবর্জনা অপসারণকাজে আগের তুলানায় ভাটা পড়েছে। মূল সড়কের বড় আবর্জনার জায়গাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হলেও ভেতরে অনেক জায়গা থেকে আবর্জনা সরানো হচ্ছে না। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অনেক এলাকায় শুক্র ও শনিবার আবর্জনা সরাতে যাচ্ছে না। পথেঘাটে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এসব আবর্জনা। ডিসিসির নিয়ন্ত্রণাধীন ড্রেনগুলোতে হাত পড়েনি দীর্ঘ দিন। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই রাজধানীর রাস্তায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। একটু ভারী বৃষ্টি হলে কোনো রাস্তা দিয়ে হাঁটার কোনো সুযোগ ছিল না। রাস্তা কাটার পর দীর্ঘ দিন কার্পেটিং ছাড়াই পড়ে থাকছে।
জন্ম সনদ নিতে হয়রানি : জন্ম-মৃত্যু সনদ, ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়ন, ওয়ারিশান সার্টিফিকেট নিতে গিয়ে নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ‘বকশিশ’ না দিলে ফাইল পড়ে থাকছে। নানা কাগজপত্র লাগবে জানিয়ে আবেদন ফেরত দেয়া হচ্ছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সার্টিফিকেট গ্রহণ করলে আর কোনো কাগজপত্র লাগত না। এখন তার পরিবর্তে অনেক ধরনের কাগজপত্র চেয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া  গেছে।
ভেজালবিরোধী অভিযান : ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে আগে নিয়মিত অভিযান হতো এবং ভেজাল পাওয়া গেলে মামলা হতো। এখন অভিযান পরিচালিত হলেও অধিকাংশ মামলা পড়ে আছে। বিশেষ করে নতুন অর্গানোগ্রামে দক্ষিণের কেন্দ্রীয় ফুড অ্যান্ড স্যানিটেশন বিভাগ বিলুপ্ত করার প্রস্তাব থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মামলাগুলো নিয়ে আর তেমন মাথা ঘামাচ্ছেন না বলে জানা গেছে। অভিন্ন সিটি করপোরেশনের সময় দায়ের করা কয়েক হাজার মামলা পড়ে আছে। এ ছাড়া ফুটপাথে হকার, নির্মাণসামগ্রী ও ব্যবসায়িক মালামাল মুক্ত রাখা, অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ, পার্ক ও ডিসিসির রাস্তাঘাটের আশপাশ অবৈধ দখলমুক্ত রাখা, বেওয়ারিশ কুকুর নিধন, হালাল ও স্বাস্থ্যকর গোশত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জবাইখানায় তদারকির মতো কাজগুলোা প্রায় বন্ধ হয়ে আছে।
মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নামমাত্র : মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অনেকটাই লোক দেখানো কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক নিয়মে মশা জন্ম নিচ্ছে, আর প্রাকৃতিক কারণেই আবার কমে যাচ্ছে। মাঝে চলছে ডিসিসির কিছু লোক দেখানো তৎপতরতা। আর বছরান্তে ১৫ থেকে ১৮ কোটি টাকা খরচ দেখানো এটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। মেয়র কাউন্সিলর না থাকায় এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করারও কেউ নেই। মশা নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন প্রতি ওয়ার্ডে সকাল-বিকেল ওষুধ ছিটানো, ডোবা-নালা পরিষ্কার করার  কথা বলছেন ডিসিসির কর্মকর্তারা। বাস্তবে কিছু ভিআইপি এলাকায় বিকেলে ফগিং করা ছাড়া তেমন কোনো কাজই  হচ্ছে না। বর্ষার অজুহাতে গত এক বছর ডোবা-জলাশয়ের কচুরিপানা পরিষ্কার করা হয়নি। সম্প্রতি সেই কাজ আবার শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হলেও বাস্তবে সেটা চোখে পড়ছে না। এ ছাড়া উড়ন্ত মশার ওষুধ ছিটিয়ে কোনো লাভ হয় নাÑ এই অজুহাতে এই ওষধ ছিটানো উভয় অংশেই বন্ধ আছে।
মুখ থুবড়ে পড়েছে উন্নয়নকাজ : রাজধানী ঢাকার উন্নয়নকাজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। ডিসিসিকে দু’ভাগের পাশাপাশি নির্বাচিত মেয়র-কাউন্সিলরদের পদের বিলুপ্তির পর উন্নয়নকাজ গতি হারিয়েছে। বিশেষ করে রাস্তাঘাট সংস্কার, ফাইওভার নির্মাণ, কার পার্কিং ভবন নির্মাণ, ফুটপাথ ও মিডিয়ান উন্নয়ন, বিউটিফিকেশন, পার্ক উন্নয়নের কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।  সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ফাইওভার নির্মাণের ব্যাপারে বছরের শেষার্ধে জোর দেয়া হলেও কোনো কাজই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হচ্ছে না।
রাস্তাঘাট উন্নয়ন : ২০১১ সালে হাতে নেয়া তিনটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ঢিমেতালে। বিগত বছরগুলোতে ডিসিসির স্বল্প বরাদ্দ, অনিয়মসহ নানা জটিলতায় কিছু কিছু সড়কের কাজ না হওয়ার কারণে ভাঙাচোরা রাস্তার তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। বিশেষ করে সমাপ্য বছরে বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় মূল সড়ক থেকে শুরু করে গলিপথ পর্যন্ত সব ধরনের রাস্তাই ভেঙেচুরে খানাখন্দে পরিণত হয়। কিছু রাস্তায় ইট-সুড়কি ফেলে চলাচল উপযোগী রাখার চেষ্টা করা হলেও তা তেমন কাজে আসেনি। ২০১১ সালের অক্টোবরে ডিসিসির উদ্যোগে রাজধানীর অধিকতর ভাঙাচোরা রাস্তার মেরামতের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা নেয়া হয়। ৩৮২টি ছোট বড় রাস্তা সংস্কারের জন্য চিহ্নিত করা হয়। ডিসিসির নিজস্ব বাজেট থেকে ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে এসব কাজ সংস্কার করার কথা। সেই কাজ এই বছরও সামান্যই বাস্তবায়ন হয়েছে। বিশেষ করে বাজেট স্বল্পতার কারণে অধিকাংশ রাস্তায় হাত দিতে পারেনি ডিসিসির উভয় অংশ। আম্ব্রেলা প্রজেক্টের আওতায় ২৬৬ কোটি টাকায় ৭৯টি সড়কের মেরামত  একনেকে অনুমোদিন ১৭৩ কোটি টাকার সংস্কারকাজের  অগ্রগতিও সামান্য। এসব কাজ কত দূর অগ্রসর হয়েছে তার সঠিক পরিসংখ্যানও পাওয়া যায়নি ডিসিসিতে।
ফাইওভার : ডিসিসির উদ্যোগে নির্মাণাধীন একমাত্র ফাইওভার গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী ফাইওভারের কাজের গতি হঠাৎ কমে যায় বছরের প্রথম দিকে। পরে আবার কাজের  গতি বাড়লেও এটির কাজ নির্দিষ্ট সময়ে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ এটি উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। তবে এ পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬৮ শতাংশ। এ ছাড়া রাজধানীতে আরো দু’টি ফাইওভারে নির্মাণকাজ চলছে। এগুলোর একটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং একটি সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ নির্মাণ করছে। ২০১০ সালের মাঝামাঝি কাজ শুরুর পর দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছিল কুড়িল বিশ্বরোড ফাইওভারের কাজ। এই বছর সেটি কাজের গতি হারায়। এখনো কাজের প্রায় ৪০ শতাংশ বাকি রয়ে গেছে। এটি চলতি ডিসেম্বরে উদ্বোধন করার কথা ছিল। তবে এয়ারপোর্ট রোড-মিরপুর ফাইওভারের কাজ জানুয়ারিতে উদ্বোধন করার কথা জানিয়েছেন যোগাযোগমন্ত্রী। যদি এই ফাইওভারের কাজও এখনো মিরপুর অংশে অনেক বাকি রয়ে গেছে। এসব ফাইওভার নির্মাণজনিত কারণে বছরজুড়েই যানজট লেগেছিল। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ এলাকায় বর্ষা মওসুমে কাদা-পানিতে নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। তবে গত এক বছরে নগরীতে কয়েকটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ হয়েছে এবং কয়েকটির কাজ চলমান রয়েছে।
লাগামহীন বাড়িভাড়া : রাজধানীতে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি এখন ভাড়াটিয়াদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ২২ বছর আগে পাস হওয়া একটি ত্রুটিপূর্ণ আইন থাকলেও সেটির প্রয়োগ না থাকায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধি এখন বাড়িওয়ালাদের খেয়ালি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আইনটি প্রয়োগ করার দায়িত্ব কার সেটিও এখনো কেউ জানে না। ফলে ইচ্ছে মতো যখন তখন যেকোনো অঙ্কের বাড়িভাড়া বৃদ্ধি এখন রাজধানীতে সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিককালে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠলেও ডিসিরি পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
সেবা নয় দুর্ভোগই বাড়িয়েছে বিভক্তি : নাগরিকসহ প্রায় সর্বস্তরের মানুষের মতামত উপেক্ষা করে  বর্তমান সরকার রাতারাতি ডিসিসিকে ভাগ করে গত বছরের ১ ডিসেম্বর। কিন্তু আজ পর্যন্ত সংস্থা দু’টির পৃথক অর্গানোগ্রাম (জনবল কাঠামো) হয়নি। ১৩ মাস কোনো অর্গানোগ্রাম ছাড়াই চলছে ডিসিসি। দক্ষিণের জন্য বিশাল নগর ভবনকে কার্যালয় করা হলেও উত্তরে গুলশানে দ্বিতল মেয়র হাউজকে কার্যালয় বানানো হয়েছে। সেখানে একই কক্ষে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার তিন কর্মকর্তা-প্রধান প্রকৌশলী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মর্তার অফিস বসাতে হয়েছে। আর টিনচালা তৈরি করে খুপরি বানিয়ে অন্যান্য কর্মকর্তাকে বসানো হয়েছে।
এ দিকে মাত্র তিন মাসের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকেরা বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।  ভাগের কারণে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি হওয়ায় দণি সিটি করপোরেশন আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে। কারণ দক্ষিণে ওয়ার্ড বেশি রাখা হলেও হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ আয় কম। ফলে নিয়মিত ব্যয় মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। যে অর্গানোগ্রামে সংস্থা দু’টি চলার কথা সেই অর্গানোগ্রামও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন হয়নি।
ডিসিসি ভাগের পর কর্মকর্তাদের মধ্যে  চলেছে বদলি ও ভালো জায়গায় পোস্টিংয়ের জন্য জোর তদবির। নিয়োগের ক্ষেত্রে চলছে আর্থিক লেনদেন ও দলীয়করণের অভিযোগ।
বিভক্তির কারণে জোন পর্যায়েও দায়সারা কাজ হচ্ছে। কেউই চাপ অনুভব করছে না। বার্থ সার্টিফিকেট, ওয়ারিশান সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্সসহ সব কাজের ক্ষেত্রেই  টাকা ছাড়া ফাইল নড়ছে না। টেন্ডারেরর ক্ষেত্রে জেঁকে বসেছে সিন্ডিকেট। প্রশাসকেরা অস্থায়ী হওয়ার কারণে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। উত্তর নগর ভবনের অফিস মহাখালী বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন নির্মাণাধীন কাঁচাবাজারে স্থানান্তরের চিন্তা করা হয়। কিন্তু এখন সেই চিন্তাও বাদ পড়েছে।
নির্বাচন কবে কেউ জানে না : গত বছরের ২৯ নভেম্বর আইন পাসের পর ১ ডিসেম্বর থেকে ডিসিসির বিভক্তি কার্যকর হওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করার কথা ছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব না হওয়ায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রশাসকের মেয়াদ আরো তিন মাস বৃদ্ধি অর্থাৎ মোট ছয় মাস করা হয় আইন সংশোধন করে। চলতি মে মাসের মধ্যে নির্বাচন করার কথা ছিল। সেই লক্ষ্যে ৯ এপ্রিল নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করা হয়েছিল। হঠাৎ এক আইনজীবীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন স্থগিত করে দেয়া হয়। এখন তিন মাস পরপর প্রশাসক বদলি হচ্ছে। ক্রমেই সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় ডিসিসি নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েই চলেছে। ফলে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে আরো কত মাস বা বছর অভিভাবকহীন থাকতে হবে সেটি কেউ বলতে পারছে না। সর্বশেষ ২০০২ সালের এপ্রিলে ডিসিসির নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ ২০০৭ সালে উত্তীর্ণ হলেও এর পর এখন পর্যন্ত আর কোনো নির্বাচন হয়নি। বিভক্তির আগ পর্যন্ত মেয়াদ উত্তীর্ণ মেয়র-কাউন্সিলরেরা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ।

No comments: