Saturday, December 15, 2012

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস


এম এ বাবর
আজ ১৪ ডিসেম্বর। এই দিনটি জাতির ইতিহাসে অশ্রুসিক্ত এক গভীর বেদনা ও শোকের দিন। ১৯৭১-এর এদিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের সহায়তায় দেশের মেধাবী সন্তানদের বেছে বেছে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, এ দেশ ও জাতিকে মেধা এবং প্রতিভাশূন্য করা।
একাত্তরের এদিন রাতের আঁধারে দেশের সেরা বুদ্ধিজীবীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের ধরে এনে বর্বর নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। বধ্যভূমিতে বড় অসহায় দশায় নিঃশেষে প্রাণ দেন আমাদের সেরা শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা। মুহূর্তে     স্থবির হয়ে যায় সব আনন্দ-কোলাহল। অন্যদিকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের    হত্যা করে উল্লাসে ফেটে পড়ে এসব নরঘাতক। এদিনটিতে হত্যাযজ্ঞের শিকার শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিরূপণ করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে বাংলাপিডিয়ায় দেয়া তথ্য অনুযায়ী একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ১৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিৎসক, ৪২ আইনজীবী এবং ১৬ শিল্পী, সাহিত্যিক ও প্রকৌশলী। এদের মধ্যে রয়েছেন ড. জিসি দেব, অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক মুনীরুজ্জামান, কবি আনোয়ার পাশা, অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, ডা. ফজলে রাব্বী, ডা. আলীম চৌধুরী, ডা. মোহাম্মদ মর্তোজা, ড. মোহাম্মদ শফি, সাহিত্যিক-সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার, সিরাজউদ্দীন হোসেন, সাংবাদিক নিজামুদ্দিন আহমেদ, খন্দকার আবু তালেব, আ ন ম গোলাম মোস্তফা, শহীদ সাবের, নাজমুল হক, আলতাফ মাহমুদ, নতুন চন্দ্র সিংহ, আরপি সাহা, ড. আবুল খায়ের, রশীদুল হাসান, সিরাজুল হক খান, আবুল বাশার, ড. মুক্তাদির, ড. ফয়জুল মাহি, ড. সাদেক, ড. আমিনুদ্দিন, সায়ীদুল হাসান, হাবিবুর রহমান, মেহেরুন্নেসা, সেলিনা পারভিনসহ আরও অনেকে।আজ দেশের সব প্রান্তে একাত্তরের রণধ্বনির মতোই একই আওয়াজ উঠেছে ‘আর দেরি নয়, বুদ্ধিজীবী হন্তারক যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড চাই।’ এদিকে একাত্তরের ঘৃণ্য-নরঘাতক মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের শীর্ষ নেতারা এখন কারাগারে বন্দি। বিজয়ের ৪১ বছর পরে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের অনেকেই এখন আনুষ্ঠানিক বিচারের মুখোমুখি। গোটা জাতি আজ অধীর আশায় বুক বেঁধেছে, হয়তো এ সরকারের আমলেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী ঘৃণ্য-নরপশু যুদ্ধাপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখতে পারবে।তবে পুরো জাতিকে হতবাক করে এখন প্রধান বিরোধী দল বিএনপি প্রকাশ্য যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বিজয়ের মাসেও মাঠে নেমেছে। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে তারা এসব যুদ্ধাপরাধীর মুক্তি এবং বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনাল বাতিলের জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লাখো মানুষ।দেশ মাতৃকাকে মুক্ত করতে যেসব কৃতী বুদ্ধিজীবী সেদিন জীবন উৎসর্গ করেছেন সেই সব শহীদ বুদ্ধিজীবীকে জাতি আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। সারাদেশে আজ যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী গোরস্তান এলাকায় নেয়া হয়েছে নিñিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শোকাহত মানুষের ঢল নামবে সেদিনের সেই হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিবিজড়িত রায়েরবাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভে। সেখানে অর্পণ করা হবে পুষ্পার্ঘ্য। শোকে আপ্লুত বাঙালি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে প্রয়াত বুদ্ধিজীবীদের। বেদিমূল ঘিরে থাকবে তাদের পরিবারের সদস্য, ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীদের চাপা কান্না ও অশ্রুতে ভিজে উঠবে স্বজনের আনা ভালোবাসার অর্ঘ্য। দেশের সর্বত্র আজ জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। শোকের প্রতীক কালো পতাকাও উড়বে। দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নিয়েছে নানা কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন।রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বলেন, ১৯৭১ সালে বিজয়ের প্রাক্কালে হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শহীদ হয়েছেন দেশের সেরা সন্তানরা। বাণীতে তিনি বলেন, জাতির সূর্যসন্তান বুদ্ধিজীবীরা দেশের বিভিন্ন সংকটে জাতিকে বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেন। তাদের সৃজনশীলতা ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা আজো আমাদের দৃপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখায়। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাঙালি জাতির মহান মুক্তি সংগ্রামে এক বেদনাবিধুর অধ্যায়। আমি শহীদ বুদ্ধিজীবীসহ মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের প্রাক্কালে আলবদর, আলশামস ও রাজাকার বাহিনী দেশের সেরা সন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করে। বিভিন্ন সময় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি হামলা চালিয়েছে মুক্তমনা শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিকদের ওপর। সেসব হত্যাকাণ্ড ও যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। বাংলার মাটিতে তাদের অপকর্মের বিচার হবেই।বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার বাণীতে বলেন, ১৯৭১-এর এদিনে মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বেছে বেছে হত্যা করেছিল। পৈশাচিক সে হত্যাকাণ্ড জাতির জীবনে সৃষ্টি করেছিল এক গভীর ক্ষত। শহীদ বুদ্ধিজীবীরা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, যার আদর্শ হবে গণতন্ত্র। তিনি বলেন, শাহাদতবরণকারী বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

‘পুঁজিবাজার কারসাজির পুনঃতদন্ত করছে এসইসি’ এসইসির এ উদ্যোগ আপনি কি সঠিক বলে মনে করেন?
হ্যাঁ  না  মন্তব্য নেই







http://www.manobkantha.com/archive_details.php?id=98000&&%20page_id=%205&issue_date=%202012-12-14

No comments: